August 9, 2026, 11:11 am

পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিপন্ন!

পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিপন্ন!

সাইফুল ইসলাম বাবুলঃ

পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির নেতৃত্বে এক সময়ে আ’লীগের মিছিলে গুলিবর্ষনকারী ছাত্রদল সাবেক সভাপতি বর্তমান পেকুয়া উপজেলা বি এন পি’ র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ রুবেল, সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং সাবেক মেম্বার মোঃ মানিক, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি আব্দুল মান্নানসহ একটি শক্তিশালী চক্র বাগগুজারা ব্রীজ পয়েন্টে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ক্ষতবিক্ষত করেছে মাতামুহুরী নদীকে।

পেকুয়া চকোরিয়ার প্রায় এলাকা মাতামুহুরী নদী বিধৌত। মাতামুহুরী নদীর জল সেবনে ফলে সোনালী ফসল আর পাহাড় থেকে বয়ে আনে উর্বর পলি। সাথে নিয়ে আসে মহামূল্যবান বালি। প্রাকৃতিক নিয়মে বয়ে যাচ্ছে নদী। একটি চক্র নদীগর্ভে সম্পদের দিকে লোলুপ দৃষ্টি দিয়েছে। আমি হাজারো নদী অত্যাচারে একটি মাত্র নদীর উদাহরণ দিচ্ছি যার নাম মাতামুহুরি নদী। কারণ চাক্ষুষ জনতা এবং প্রশাসনের নাকের ডগায় কেনো এই অপকর্ম। মাতামুহুরী সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গুর অংশ হচ্ছে বাগগুজারা পয়েন্ট। উভয় পাড়ে বর্ষার ভাঙ্গনে বন্যা হয়, ভেঙ্গে যায় বেড়ীবাঁধ, কৃষি জমি বিলীন হয় নদীগর্ভে। উভয় পাড়ে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম্য বাজার এবং আঞ্চলিক মহাসড়কের একমাত্র ব্রীজ বা সেতু যাকে আমরা পেকুয়া চকরিয়া সংযোগ সেতু বা বাগগুজারা ব্রীজ বলে থাকি।

দুর্যোগের সময় ত্রাণসামগ্রী, সেনাবাহিনীর ভারী যানবাহনসহ সেনা অস্ত্র আর মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুতের চট্টগ্রাম সংযোগ এই বাগগুজারা সেতু দিয়ে হয়। দুষ্ট চক্র সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ভারী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে ঐ স্থানে বালি উত্তোলন করছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে বেড়ী বাঁধের পাদদেশ। শুরু হবে ভাঙ্গন, সেতুর নীছের স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব। পানি উন্নয়ন বোর্ড নীরব, পরিবেশ অধিদপ্তর নীরব, পেকুয়া চকরিয়ার প্রশাসন নীরব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নীরব, জানিনা কবে ভাংবে এই নীরবতা।

মাতামুহুরী নদীর কান্না কেউ শুনতে পায়না। তাই একটু শুনাতে চাই। বাঁচাধন যারা এ কাজ করছে তাদের মনে হয় সবাই সমীহ করে চলে। ক্ষমতাসীন দলের এক ছাত্র নেতা কে সামনে দিয়ে বিএনপি ক্যাডাররা এই কাজ সুচারুরূপে করে যাচ্ছে। আদর্শিক দূরত্ব থাকলেও কূকামে পরস্পর সযোগী। হয়তো গুটিকয়েক লোকের পকেট তাজা হবে। নদী ভাঙ্গনের সাথে আমাদের হৃদয়ে ভাঙছে। হয়তো কোনদিন ব্রীজ বা সেতু ভাংলে পেকুয় চকোরিয়ার হৃদয় ভাঙতে পারে। চকরিয়া চিরিঙ্গা সেতু অচল হওয়ায় জরুরী যোগাযোগের জন্য বাগগুজারা সেতুই একমাত্র ভরসা।

রাজনীতিবিদরা বলে থাকেন আশ্রয় লীগ পশ্রয় লীগ থামান। আরো বলেন অনুপ্রবেশকারী থামান। কীভাবে থামবে যদি ক্ষমতাসীন লোকেরা এসব দুষ্কর্মের সাথী হয়।

বাঁদর দিয়ে উকুন মারার মতো অবস্থা। শেষে কিনা একটা উকুনের পিছনে এক একটা থাপ্পর খেতে হয়। পোস্ট পদবি থাকলে সব কুকর্মের দায় মুক্তি পাওয়া যায়। অবৈধ বালি উত্তোলন পরিবেশ-প্রতিবেশ বিপন্ন হবে। বিভিন্ন দলের লোক দিয়ে দুষ্ট চক্র গঠন করে মাতামুহুরী নদীকে ক্ষতবিক্ষত করছে। দেখার কেউ নাই। তাই এই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আসু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2020 districtnews24.Com
Design & Developed BY districtnews24.Com